জেনারেল রাইটিং: ঐতিহ্যবাহী সেমাই পিঠা খাওয়ার অনুভূতি
আসসালামু আলাইকুম,,,
কেমন আছেন সবাই নিশ্চয়ই অনেক ভালো আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
আজ লিখছি আমাদের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পিঠা হাতে কাটা সেমাই পিঠা খাওয়ার অনুভূতি। চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করা এই পিঠাটি আমাদের ঐতিহ্য বলা চলে গর্ভকালীন সময় মায়ের জন্য রাখা অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে এই পিঠা তৈরি করা হয়। প্রতিবেশী কিংবা হবু মায়ের বাবার বাড়ি থেকে এই পিঠাসহ নানান রকম খাবারের আয়োজন করা হয়।
অনেকদিন পরে পিটা খেলাম প্রতিবেশী আন্টির বদৌলতে। সত্যি বলতে এমন প্রতিবেশী পেয়ে আমি ভীষণ রকম আনন্দিত আমার গর্ভকালীন সময়ও প্রতিবেশী আন্টিরা নানান খাবারের সাথে এই পিটাও বানিয়ে পাঠিয়েছিল। গত সপ্তাহে মামার বাড়িতে ইফতারের দাওয়াত ছিল তখন মামা হঠাৎ কথা প্রসঙ্গে বলছিল এই পিঠার কথা। নানু থাকাকালীন সময়ে খেয়েছিলেন এরপর আর তেমনভাবে খাওয়া হয়নি তিনি সেই সময়টাকে মিস করছেন।
প্রায় সাতটার কাছাকাছি সময়ে হঠাৎ প্রতিবেশী আন্টি এসে হাজির সাথে এনেছেন হাতে কাটা চালের সেমাই কিছু রান্না করে এনেছেন যেন তখন খেতে পারি আর কিছু ভাপানো এনেছেন যাতে ফ্রোজেন করে রাখতে পারেন। আন্টি ভীষণ মায়া করেন আমাদের তাই আম্মু ওখানে নেই ভেবে আম্মুর জন্য আলাদা বক্সে এনেছিলেন। প্রতিবেশীদের এই আন্তরিকতা একটু বেশি সুন্দর। বেচেঁ থাকুক এমন আন্টিগুলো এমন সুন্দর মন নিয়ে।আমাদের এখানে প্রতি বছর রমজান মাসে প্রতিবেশীরা একে অপরের সাথে ইফতার শেয়ারিং করে যেটা আমার অনেক বেশি পছন্দ।
অন্য সময় আমার রান্না করতে আলসেমি আসলেই ইফতার দেওয়ার জন্য রান্না করতে বললে আমার শক্তি ফিরে আসে আসলে সবার জন্য রান্না করার মজাই আলাদা। একেক বাড়ির খাবারের স্বাদ একেক রকম মজাদার। প্রতিবেশী কোনো মেয়ে গর্ভবতী হলেও পাড়ার আন্টিরা নানু দাদুরা নাননকিছু রান্না করে পাঠায় স্বাদা বদলের জন্য। এই আন্টিটা আমার পছন্দের এই চালের সেমাই আমার গর্ভকালীন সময়ে বেশ কয়েক বার রান্না করে পাঠিয়েছিলেন। এই পিঠাগুলো খেতে খেতে সেসবই গল্প করছিলাম মামার সাথে।
আসলেই ওনার রান্না বেশ মজাদার। মামাও বেশ কয়েক বছর পরে খেয়েছেন বলে ওনারও বেশ ভালোই লেগেছে। সেইম পিঠার স্বাদ নিতে নিতে নানুর হাতের সেমাই পিঠার গল্প শুনছিলাম কারণ আমি তাদের বৃদ্ধ অবস্থায় দেখেছি তাই মামার মুখে নানুর কথা শুনতে বেশ ভালো লাগছিলো।প্রতিবেশীর থেকে এমন হুটহাট পাওয়া উপহারগুলো একেবারে মন ভালো করে দেয়ার মতো আনন্দের। মাঝে মাঝে আমাদের সবারই উচিত প্রতিবেশীদের এভাবে চমকে দিয়ে আনন্দিত করা।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।
| পোস্ট | বিবরণ |
|---|---|
| শ্রেণি | পিঠা খাওয়ার অনুভূতি |
| ক্যামেরা | স্মার্টফোন |
| পোস্টতৈরি | @farhanaaysha |
| লোকেশন | বাংলাদেশ |
| ডিভাইস | iQOO Z3 5G |

আপনাকে আসলে খুবই সৌভাগ্যবতী বলতে হবে। আজকাল এমন প্রতিবেশী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। যেখানে বর্তমানে প্রতিবেশীরা সবসময় চেষ্টা করে কিভাবে প্রতিবেশীর ক্ষতি করা যায় তার জায়গা জমি দখল করা যায়। সেখানে এমন কেয়ারিং প্রতিবেশী আসলেই দারুন। আপনার পোস্টটা পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্বী ভাইয়া এমন প্রতিবেশী পেয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবান। গ্রামে থাকাটা সার্থক। আসলে এখানে সবার সাথে সবার সম্পর্কটা বেশ সাবলীল সবাই সবাইকে ভালোবাসে।কয়েক দিন আগে জলাশয়ে মাছ ধরেছে সবাই আমাদের বাসায় যাওয়ার মতো কেউ নেই বলে তিন চার পরিবার থেকে মাছ পাঠিয়েছে কেউ কাঁচা আর কেউ রান্না করা।
twitter
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
হাতে কাটা সেমাই খেজুরের গুড় দিয়ে রান্না করলে খেতে খুব সুস্বাদু লাগে। এ ধরনের পিঠা শীতকালে আমার কাছে অনেক পছন্দের। আপনি খুবই সুন্দরভাবে রেসিপিটি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ভাইয়া এটা উপহার ছিলো প্রতিবেশী আন্টি নিয়ে এসেছিলেন
আসলেই প্রতিবেশীর থেকে এরকম হুটহাট করে উপহার পেতে অনেক বেশি ভালো লাগে তবে আপনার প্রতিবেশীদেরকে আপনার অনেক বেশি খেয়াল রাখে। সেমাই পিঠা বরাবরই আমার কাছে অনেক বেশি সুস্বাদু লাগে আপনার মামা অনেক বছর পরে এই পিঠাকে অনেকটাই উৎফুল্ল বোঝাই যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনাকে প্রতিবেশীর হাতের সেমাই পিঠা খাওয়ার অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
আসলেই আমাদের সাথে প্রতিবেশীদের অনেক ভালো সম্পর্ক। আমার মামা একজন ডাক্তার ওনি মাসে দুদিন নিজ এলাকায় চেম্বার করেন সেসময় প্রায় এরকম উপহার আসে নানান রকমের পিঠা,রান্না করা খাবার সহ অনেক কিছুই
আসলে এইরকম কোনদিন সেমাই পিঠা খাওয়া হয়নি।আজকে প্রথম এই পিঠার সম্পর্কে জানতে পারলাম। তবে পিঠা গুলো দেখে বুঝা যাচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আর প্রতিবেশীদের কাছে এমন কোন উপহার পেলে সত্যি খুবই ভালো লাগে। যাইহোক আপনি এতো সুন্দর ভাবে নিজের অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
এটা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য প্রতি রমজানের সময় ঘরে ঘরে রান্না করা হয় আর প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করে খায় সবাই
সেমাই পিঠা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে যদি রান্নাটা ভালো হয়। আজকে আপনার এই পোস্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আপনি খুবই চমৎকারভাবে ঐতিহ্যবাহী সেমাই পিঠা খাওয়ার সুন্দর একটি অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন।
জ্বী ভাইয়া রান্নাটা চমৎকার ছিলো এই পিঠা আসলেই মজার
আপনি তো দেখছি আমার পছন্দের পিঠা খাওয়ার অনুভূতিটা শেয়ার করেছেন। সেমাই পিঠা খেতে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। এই পিঠাটা দেখে মনে হচ্ছে অনেক বেশি মজাদার ছিল একেবারে। আর এটা গ্রাম বাংলার অনেক বেশি ঐতিহ্যবাহী একটা পিঠা। অনেকদিন হয়েছে এই পিঠাটা আমার খাওয়া হয়না। আপনার খাওয়ার মুহূর্তটা দেখেই তো আমার লোভ লেগে গিয়েছে। এই পিঠাগুলো আগে দেখা যেত প্রত্যেকটা বাড়িতে তৈরি করা হতো বিশেষ করে শীতের সময়টাতে। অনেক ভালোই উপভোগ করলাম আপনার পিঠা খাওয়ার মুহূর্তের পোস্ট পড়ে।
জ্বী আপু এখন প্রচলন কিছু টা কমে গিয়েছে। তবে অনেকেই এখনো তৈরি করেন ওনাদের সুবাদে আমরাও একটু স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাই মাঝে মধ্যে
আমরা পরিবর্তন হয়ে গেছি, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে, তাইতো নিজের আত্মীয় স্বজন, আপন মানুষজনদেরও খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করি না, প্রতিবেশীকে চমকে দিবো কি করে? আপনি ভাগ্যবান বলে এমন প্রতিবেশী পেয়েছেন।
খুব সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করেছেন, তবে কয়েকটি বানান ভুলের সাথে দাঁড়ি-কমা, ঠিক মতো ব্যবহার করা হয় নাই, এই বিষয়ে যত্নশীল হওয়ার অনুরোধ করছি।
জ্বী ভাইয়া এখন থেকে চেষ্টা করবো সবকিছু ঠিকঠাক করে পোস্ট পাবলিশ করার। অনেক ধন্যবাদ ভূলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।
জ্বী ভাইয়া আসলেই ভাগ্যবান এখানে সবাই যত্নশীল সবাইকে ভালোবাসে সবাই। এমন হুটহাট উপহার প্রায় পাওয়া হয় আলহামদুলিল্লাহ গতকাল এক আন্টি গাছের কাঠাল পাঠিয়েছেন বাটি ভর্তি। আসলে আমি মনে করি আমি কাউকে দিলে তার আমার প্রতি আন্তরিকতা তৈরি হয় তাই সেও আমার জন্য উপহার আনে তার সামর্থ্য অনুযায়ী। উপহার যেমনই হোক সেটা হাসিমুখে গ্রহণ করলে উপহার দাতা বেশ খুশি হয়