‘খলনায়ক’ তাসকিনের পিঠে ‘নায়ক’ মাশরাফির হাত
শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তায় চিটাগং ভাইকিংসকে পরাজিত করে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। গেল রাতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে সবাই যখন থিসারা পেরেরার প্রেমে বুঁদ। ঠিক তখন ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ল ঝলমলে এক ছবি। রংপুর রাইডার্স কাপ্তান মাশরাফি বিন মুর্তজা কথা বলছেন চিটাগং ভাইকিংসের পেসার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে। কী কথা হলো তাদের? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে দর্শকদের মনে। তবে এটা অনুমেয়, তাসকিনের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছেন ম্যাশ।
সংবাদ সম্মেলনেও তেমন আভাসই দিলেন রংপুর দলনেতা। ‘তাসকিন যখন আমার দলে থাকে, অধিনায়ক হিসেবে আমি ওকে এ সময় ইয়র্কার দেওয়ার কথা বলি। ইয়র্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার সে। চাপের মধ্যে দশবারের অন্তত পাঁচ-ছয়বারই সে ইয়র্কার ভালো করতে পারবে। ওকে বলছিলাম পরে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে...হয় কী শিশিরের কারণে অনেক সময় স্লোয়ার বল পিচে ধরে না। সে সেরাটাই চেষ্টা করেছে। ১৮তম ওভার দারুণ করেছে। ভাগ্য থিসারার পক্ষে ছিল, ব্যাটে-বলে হয়ে গেছে। বা ওয়াইড না হলে বলটা প্যাডে লাগলে আমরা হেরেও যেতে পারতাম। দিন শেষে ফল তো একদিকে যাবেই। ও দুর্ভাগা, আমরা সৌভাগ্যবান।’

শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ১৪ রান। তাসকিন আহমেদের দ্বিতীয় বলে থিসারা পেরেরা ছক্কা মারলে ম্যাচ খানিকটা ঝুঁকে যায় রংপুর রাইডার্সের দিকে। কিন্তু পরের তিনটা বল ভালো করায় ম্যাচটা আবার চিটাগং ভাইকিংসের দিকে টেনে আনেন তাসকিন। শেষ বলে দরকার ৪ রান। দুরু দুরু কাঁপন বুকের ভেতর। স্নায়ুতে বোধহয় আকাশসম চাপ। নিঃশব্দ গ্যালারি। এমন শিহরণ জাগানো মঞ্চে দাঁড়িয়ে পেরেরাকে স্লোয়ার বলই করতে চেয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু চাপটা সইতে পারেননি তিনি। তালগোল পাকিয়ে তাসকিন দিলেন ওয়াইড।
ঘরের মাঠে গ্যালারিভরা সমর্থকদের চোখে-মুখে এবার রাজ্যের অন্ধকার। লাস্ট বলে রংপুরের দরকার ৩ রান। আক্রমণে গেলেন তাসকিন। লেগ স্টাম্পে শর্ট বল, মিস করেননি পেরেরা। শরীরের সব শক্তি দিয়ে বল সবার মাথার ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করলেন এই লঙ্কান হার্ডহিটার। ততক্ষণে উদযাপনের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা স্টেডিয়ামে। ভুল! গোটা স্টেডিয়াম নয়, একপাশে উচ্ছ্বাস চললেও অপরপাশে ঠিকই হারের বেদনা। এটাই যে ক্রিকেট। এখানেই ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য।
right bor follow kro amaky