নাটক রিভিউ: ভুলতে পারিনা। এক রাজকন্যা ও এক চাষার ছেলের গল্প।|| Drama review post..
এক রাজকন্যা ও এক চাষার ছেলের গল্প। |
|---|
| নাটকের নাম: | ভুলতে পারিনা |
|---|---|
| পরিচালনা: | মাসুম শাহরিয়ার |
| গল্প : | জামাল হোসেন |
| অভিনয়ে: | আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী |
| ভাষা: | বাংলা |
| শ্রেনী: | সামাজিক ও শিক্ষা মূলক |
| দৈর্ঘ্য: | ৫৬ মিনিট |
আসলে গল্পটা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কালীন সময়ের এবং এখানে একজন গরিব চাষার ছেলের এবং বিত্তশালী মেয়ের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। চলুন আগে নাটকের মূল গল্পটা দেখে আসি তারপর আমার মতামত জানাচ্ছি।
প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় নায়িকা মেহজাবিন নায়ক আফরিন নিশোকে কল দিচ্ছে কিন্তু নিশো রং নাম্বার বলে কলটি কেটে দিচ্ছে। মূল কথা হচ্ছে নিশো এড়িয়ে যেতে চাইছে মেহজাবিনকে।
এরপর নিশো তার এক বড় ভাইকে ব্যাপারটা খুলে বলে, যে মেয়েটি তাকে ফোন করছে। কিন্তু একটা সময় মেয়েটি তাকে তীব্র অপমান করেছিলো।
মেহজাবিন নিশোর সাথে ফোনে কথা বলতে না পেরে সে তার সবথেকে কাছের বান্ধবীকে জানায় ব্যাপারটা। তার বান্ধবী তাকে বোঝায় এটা তার উচিত হচ্ছে না কারন একটা সময় সে তাকে চাষীর ছেলে বলে অপমান করেছিলো। কিন্তু মেহজাবিন তাকে নিয়ে নতুন ভাবে ভাবতে চায়। কেন তাকে ভালোবাসতে চাইছে সেই ঘটনাটা বোঝা যাবে একটু পরেই।
এবার অতীতের কিছু ঘটনায় ফিরে যাওয়া যাক। মূলত নিশো মেহজাবিনের প্রেমে পড়ে যায় কারন সে ভীষণ সুন্দর দেখতে এবং তার পিছুপিছু ঘুরতে থাকে। অবশেষে মেহজাবিনের সাথে দেখা করার সুযোগ পায় সে। তার ভালো পোশাক না থাকায় সে পরিচিত বড় ভাইয়ের ব্লেজার পরে তৈরি হয়।
এই অংশে নিশো দেখা করতে আসে এবং তার কবিতার খাতা নিয়ে আসে। কবিতাগুলো মেহজাবিনকে উদ্দেশ্য করে লিখা। মেহজাবিন কবিতা পড়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে থাকে তাকে।
এরপর মেহজাবিন নিশোকে বিল দিতে বলে কিন্তু তার কাছে এতো টাকা ছিল না। সে তাকে অপমান করতে থাকে। শেষে বলে তোমার গায়ের ব্লেজারটা নিশ্চয়ই তোমার নয়, একটা চাষার ছেলে আসছে আমার সাথে প্রেম করতে। তারপর নিশোর কবিতার পাতাগুলো ছিড়ে তাকে খেতে বলে। নিশো কাঁদতে কাঁদতে সেই কাগজগুলো গিলতে থাকে। এদিকে সবাই হাসতে থাকে এবং তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে থাকে।
নিশো বাসায় ফেরার পর তার মন ভীষণ খারাপ থাকে। সেই বড় ভাই তাকে বলে একদিন সেই মেয়ে তোর কাছে পাগলের মতো ফিরে আসতে চাইবে।
এরপর করোনা কালীন সময়ে নিশোর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে এবং সে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে। তাছাড়াও তার শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয় যা সে অন্যান্য মানুষকে দান করে সুস্থ করতে চায়।
এই দৃশ্যে মেহজাবিন করোনা পজিটিভ ধরা পরে এবং তার অবস্থা ভীষণ খারাপ হতে থাকে। সে বাঁচবেই না এমন অবস্থা হয়ে পরে। মেহজাবিনের বাবার অফিসের পিএ নিশোর সাথে যোগাযোগ করে এবং তাকে এন্টিবডি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নিশো জানতো না সে মেহজাবিনকে ব্লাড দিচ্ছে।
এরপর নিশোকে মেহজাবিনের বাবা দেখা করতে বলে এবং তাকে সহযোগিতা করতে চায়। নিশো দেয়ালে থাকা মেহজাবিনের ছবি দেখে ভেতরে ভেতরে আক্রোষে ফেটে পরে কিন্তু তার বাবাকে বুঝতে দেয়নি। উল্টো তার বাবার কোন রকম সহযোগিতা প্রত্যক্ষান করে এবং সেখান থেকে বিদায় নেয়।
মেহজাবিন তার হসপিটালের কাগজে নিশোর ফোন নাম্বার পেয়ে তাকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করতে থাকে এবং তাকে চিনতে পারে। শেষমেষ তাকে দেখা করার কথা বলে।
নিশোকে দেখে মেহজাবিন আবেগ প্রবন হয়ে ওঠে এবং তার অন্যায় আচরণের জন্য লজ্জিত বোধ করে।
এরপর নিশো তাকে অপমানের জবাব দেয় কিন্তু মেহজাবিন কাঁদতে থাকে এবং তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়। কিন্তু নিশো তাকে বলে তোমার আজকের এই নাটকটি আমার ভালো লাগছেনা। আমি চাষার ছেলে বলে যে অপমান আমায় করেছিলে তা কোনদিন ভোলার নয়। সে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়, মেহজাবিন কাঁদতে থাকে।
মানুষকে কখনো ছোট করে দেখতে নেই। পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষকে সর্বোচ্চ সম্মান তার আনুগত্যের জন্য পাঠিয়েছেন কিন্তু আমরা জাত পাত বিচার করে মানুষের সাথে খারাপ আচরন করি। ছোট কাজ করলে তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অপমান করতে ভালো লাগে। কিন্তু কে কখন কার জন্য মূল্যবান মানুষ হয়ে সেটা একমাত্র তিনিই বিচার করেন। এই নাটকে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কৃষকের ছেলে বলে নিশোকে তীব্র অপমান করা হয়েছিল কিন্তু সে একপর্যায়ে মেহজাবিনের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসে। যাইহোক শেষ পর্যন্ত মেহজাবিন তার ভুল বুঝতে পারে কিন্তু তখন তাকে আর মেনে নেয়নি নিশো।
নাটকটিতে আমি জীবনের চরম বাস্তবতা খুঁজে পেয়েছি এবং আমার কাছে ভালো লেগেছে। আপনাদের নাটকটি দেখার জন্য অনুরোধ জানাই হয়তো অনেকের উপলব্ধি ভিন্নরকম হতে পারে।
আমি ইন্জিনিয়ার ইমরান হাসান। মেশিন নিয়ে পেশা আর ব্লগিং হলো নেশা। কাজ করি টেকনিক্যাল সাপোর্ট ইন্জিনিয়ার হিসেবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। অবসর সময়ে ব্লগিং করি নিজের মনের খোরাক আর একটু পরিবারকে ভালো রাখার জন্য। আমি আবেগী, বড্ড জেদি, নিজেই নিজের রাজ্যের রাজা। কেউ কোথাও থেমে গেলে সেখান থেকে শুরু করতে ভালোবাসি। আমার শখ ছবি তোলা, বাগান করা আর নতুন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। মানুষকে আমি ভালোবাসি তাই মানুষ আমায় ভালোবাসে।
https://steemitwallet.com/~witnesses
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/emranhasan1989/status/1704503238957932807?t=fh73mysGEVgsksjk9MPQyg&s=19
ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দিয়েছেন। আপনার নাটক রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো। এই নাটক এখনো দেখা হয়নি তবে সময় পেলে অবশ্যই দেখবো। মেহেজেবিনের নাটক দেখতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। এই নাটকটি একদম বাস্তবের সাথে মিল রেখেই করা হয়েছে । ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর নাটক রিভিউ দেওয়ার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
সময় পেলে নাটকটি দেখবেন আশাকরি ভালো লাগবে।
আসাধারণ সুন্দর কাহিনী। আসলেই কে কখন দরজায় নক দেয়,উপরওয়ালাই ভালো জানে।
চাষির ছেলে বলে, অপমান করতে,তো তখন ভাবেনি। সঠিক জবাব ই দিয়েছে নিশো।সমাজে
মেহজাবিন দের অভাব নেই। খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক ধন্যবাদ আপু।
সত্যিই নাটকের গল্পটা এককথায় অসাধারণ।
এধরনের মেহজাবিন সমাজে ভরপুর।
হ্যা, ভাইয়া লোকদেখানো ভালোবাসা। অনেক টা বসন্তের কোকিলের,মত ওরা কখনো কাউকে ভালোবেসে না ভালোবাসে।সব ই ওদের অভিনয়। নাটক টি আমি দেখেছি।
এই নাটকটি আগে দেখা হয়নি ভাইয়া। তবে আপনার পোস্টটা পড়েই বোঝা যাচ্ছে এটা অনেক সুন্দর একটি নাটক। আমি অবশ্যই কখনো সময় করে এই নাটকটি দেখব। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
Heres a free vote on behalf of @se-witness.
খুবই সুন্দরভাবে আপনি এই নাটকের রিভিউ করেছেন। এই নাটকটি আমি দেখিনি৷ তবে আপনি যেভাবে এই নাটকটির রিভিউ করছেন আমি এই নাটকটি অবশ্যই দেখে নেব৷ খুবই সুন্দর ভাবে আপনি এই নাটকের রিভিউটি তুলে ধরেছেন৷ অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটি রিভিউ শেয়ার করার জন্য৷
ধন্যবাদ ভাই।
নাটকটি দেখলে আশাকরি আপনার ভালো লাগবে।
ভুলতে পারিনা এই নাটকটি অনেক আগে দেখেছি। এধরনের বাস্তবতার সাথে মিলে যাওয়া নাটক গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। নাটকটির শেষের দিকে এসে মেহজাবিন তার ভুল বুঝতে পেরেছে জেনে ভালো লাগলো। অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ লিমন।
নাটকটি আমার আগে দেখা হয়নি, সেদিন দেখলাম বেশ ভালো লেগেছে।
এখানে বোঝার আছে অনেক কিছু।