মুভি রিভিউ :- "Tere Naam"
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ সোমবার। ০৫ ই জুন, ২০২৩ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের নিকট 'Tere Naam' মুভিটির রিভিউ উপস্থাপন করছি। আশা করি মুভিটির রিভিউ আপনাদের নিকট অনেক অনেক ভালো লাগবে।
সকল ছবি youtube থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুভিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:-
| মুভিটির নাম | Tere Naam |
|---|---|
| পরিচালক | সতীশ কৌশিক |
| অভিনয়ে | সালমান খান, ভূমিকা চাওলা,রাবি কিশান ও অন্যান্য জন |
| ভাষা | হিন্দি |
| দৈর্ঘ্য | ০২:১১ মিনিট |
| দেশ | ভারত |
মুভিটির সারসংক্ষেপ।
Tere Naam মুভিটির শুরুতেই দেখা যায় যে, কলেজে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উক্ত নির্বাচনে রাধে নামের একজন যুবক বিজয়ী হয়। নির্বাচনে বিজয়ী রাধে অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। রাধের কাজ ছিল মানুষের উপকার করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করা। রাধের পরিবারে ছিল তার বড় ভাই ও ভাবি এবং একজন ভাতিজি। রাধে তার পরিবারের সাথে এবং তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে সব সময় সুসম্পর্ক রেখে চলাচল করতো।
নিরজারা ছিল একজন ধর্মীয় ঠাকুরের মেয়ে। নিরজারা স্বভাব চরিত্রে অত্যন্ত শান্ত মনোভাবের ছিল। একদিন কলেজে রাধের সাথে নিরজারার দেখা হয়। তারপর আস্তে আস্তে রাঁধে নিরজারার ব্যবহার এবং নিরজারার রূপের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে থাকে। এক সময়ে রাধে নিরজারার প্রেমে পড়ে যায়। এমন অবস্থায় রাধের আচরণগত দিকটি দেখে রাধের বড় ভাবির মনে সন্দেহ বাসা বাঁধে। একদিন রাধে তার প্রেমের কথাটি নিরজারার কাছে বলে দেয়। কিন্তু নিরজারা রাধের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিরজারার প্রতি রাধে খুবই অসন্তুষ্ট হয়। তারপর রাধে বিভিন্ন ধরনের কৌশল করে নির্জারার সাথে প্রেম করতে সক্ষম হয়। তখন নিরজারাও রাধের প্রেমে পড়ে যায় এবং রাধের সাথে ভালোবাসার সু-সম্পর্ক স্থাপন করে। তারপর একদিন রাধছ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় এক দল গুন্ডা রাধের উপর আক্রমণ করে। গুন্ডার দল রাধের মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে চলে যায়।
তারপর রাধের পরিবার পরিজন তাকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাধের মাথার ব্রেনের সমস্যা হয়ে গেছে অর্থাৎ রাধে এখন পাগল হয়ে গেছে। তারপর রাধেকে একটি পাগলা গারদে চিকিৎসা প্রদানের জন্য রাখা হয়। রাধের পাগল হওয়ার খবর শুনে তার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব সকলেই হতাশাগ্রস্থ হয়ে যায়। এমনকি নির্জারা রাধের জন্য ভেঙে পড়ে। তারপর নির্জারা রাধের জন্য প্রভুর নিকট আরাধনা শুরু করে। এমন অবস্থায় নিরজারার অভিভাবক রাধের সাথে নিরজারার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে।
এদিকে রাধে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে যায়। তাই সে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পালাতে গিয়ে সে মারাত্মক আকারে আহত হয়। এদিকে একদিন নিরজারা রাধেকে দেখতে পাগলা গারদে আসে। কিন্তু রাধের সাথে নিরজারার কোন কথা হয় না। রাধের অসহায় অবস্থা থেকে নিরজারা কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নিরজারার অভিভাবকেরা অন্য পাত্রের সাথে নিরজারাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিয়ের দিন ধার্য করে ফেলে।
অত্যন্ত ধুমধাম এর সাথে নিরজারা বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যায়। এদিকে রাধে প্রাণপণ চেষ্টা করে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করে। এদিকে বিয়ের দিন নিরজারাকে শুধুমাত্র কাঁদতে দেখা যায় এবং চোখের জল বিসর্জন দিতে দেখা যায়। বিয়ের শেষ মুহূর্তে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে রাধে নিরজারাদের বাড়িতে আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু নিরজারাদের বাড়িতে এসে রাধে দেখল যে, তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় প্রেমিকা নিরজারা সকলকে কাঁদিয়ে জীবন নদীর ওপারে চলে গেছে। রাধে নিরজারার লাশের পাশে কিছুক্ষণ বসে থাকে, তারপর সেখান থেকে চলে যায়। রাস্তায় এসে রাধের সাথে তার বড় ভাই ও বন্ধুর সাথে দেখা হয়। কিন্তু রাধে কারো সাথে কোন কথা না বলে নিজ ইচ্ছায় গাড়িতে চড়ে পুনরায় পাগলা গারদে চলে যায়। তারপর মুভিটি শেষ হয়ে যায়।
মুভিটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত।
Tere Naam মুভিটি আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি মুভি। এই পর্যন্ত আমার দেখা সেরা মানের যতগুলো মুভি আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো Tere Naam মুভিটি। মুভিটির প্রথম থেকেই রাঁধের বিভিন্ন কার্যকলাপ গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে রাধের প্রতিবাদী ভূমিকাটি সত্যিই অসাধারণ ছিল। একই সাথে রাধের রোমান্টিক ভালোবাসার মুহূর্তটা খুবই মনোমুগ্ধকর ছিল।Tere Naam মুভিটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছে খুবই ভালো লাগলেও সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছে মুভিটির শেষ প্লটের দৃশ্যটি। বিশেষ করে, রাধে যখন পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে নিরজারার বাড়িতে আসলো। তারপর নিরজারার মৃত লাশ দেখে রাধের পুনরায় পাগলা গারদে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তটা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। এই মুভিটির শেষের দৃশ্যটি দেখতে গিয়ে আমি কেমন যেন নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল যেন, পুরো বাস্তব একটি দৃশ্য দেখছি। তাই আমি মনে করি, ভালোবাসার সঠিক মূল্যায়ন করতে, সত্যিকারে প্রেমিক-প্রেমিকা হতে, সত্যিকারের ভালোবাসায় নিজেদেরকে আবদ্ধ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই এই মুভিটি দেখা প্রয়োজন।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Twitter link
খুবই সুন্দর একটা সিনেমার রিভিউ আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন। আমি এখনো মাঝে মাঝে এই সিনেমাটা দেখি। প্রথমবার যখন এই সিনেমাটি দেখেছিলাম আমি যেন কান্না করে ফেলেছিলাম।
বাহ ভাইয়া আপনি খুবই সুন্দর একটি সিনেমা রিভিউ করেছেন। তেরে নাম এই সিনেমাটি অনেক ভালো একটি সিনেমা। ছবিটির কাহিনী দেখলে চোখে জল চলে আসে। অনেক বার সিনেমাটি দেখেছি। আপনি চমৎকার ভাবে সিনেমার রিভিউ করেছেন। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সুন্দর একটি সিনেমার রিভিউ আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন।কাজের ফাঁকে সময় পেলে আমি মুভি ও নাটক দেখে থাকি।মুভিটির আগেও আমি দেখেছি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছ।মুভি রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়।
অসাধারণ একটি মুভির রিভিউ করেছেন ভাইয়া। সত্যিকারের অর্থে প্রেমের একটি অসাধারণ ছবি।।ছবিটি যে কতবার দেখেছি তার হিসাব নেই। দারুন অভিনয় করেছে ভূমিকা এবং সালমান খান। আর আপনিও দেখছি বেশ সুন্দরভাবে ছবিটির রিভিউ করেছেন।
খুব সুন্দর মুভি রিভিউ করেছেন আপনি। আপনার মুভি রিভিউ করার প্রক্রিয়া খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। এই মুভিটি দেখে খুব ভালো লেগেছে আমার । এত সুন্দর মুভি রিভিউ করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
সালমান খানের এই মুভি আমি ছোটকালে কয়েকবার দেখেছি। এই মুভিতে প্রথম সেই কলেজে নির্বাচন জয়ী হয় এবং সেই ভালো কাজ করে। পরবর্তীতে এসে একটা মেয়েকে পছন্দ করে এবং কৌশলে তার সাথে অনেক কষ্ট করে প্রেম করে। হঠাৎ করে কিছু খারাপ লোক তাকে আক্রমন করে তার মাথা ব্র্যান্ড আঘাত পায়। এরপর থেকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। আপনি অনেক সুন্দর করে মুভিটি আমাদের মাঝে বর্ণনা দিয়ে লিখে শেয়ার করেছেন। সত্যি পড়ে অনেক ভালই লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।