গল্প :- কিছু কিছু ছেলে মেয়ে আছে মা-বাবার দায়িত্ব পালন করে না। (প্রথম পর্ব)
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমাদের আশেপাশে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যেই ঘটনা গুলো অনেক সময় শিক্ষনীয় হয়ে থাকে। কখনো কখনো দুর্ঘটনা, আবার কখনো মর্মান্তিক ঘটনা। এজন্য আজকে আবার ও একটা কাহিনী নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আমার লেখাটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব কিছু ছেলে মেয়ে আছে মা-বাবার দায়িত্ব পালন করে না। আমার শ্বশুর বাড়ির মধ্যে এক মহিলার কথা আপনাদের মাঝে আমি শেয়ার করব। মূলত মহিলাটির দুটো ছেলে আছে। আরেকটি মেয়ে আছে। তবে ওই মহিলাটি অল্প বয়সে হাজবেন্ড মারা গেল। মহিলাটি অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েদেরকে মানুষ করেছে। দিনরাত পরিশ্রম করে সে ছেলে-মেয়েদের মানুষ করলো। যদিও এই মহিলার সম্পূর্ণ কাহিনী আমি আমার শাশুড়ির মুখ থেকে শুনেছি এবং মহিলার মুখ থেকে শুনেছি। মহিলাটি আমার হাজবেন্ডের ঘরে আসে। সকালবেলা আসলে আমি ওই মহিলাকে নাস্তা করার সময় দেখলেন নাস্তা করাই। এবং মহিলাটির কথাবার্তা খুব ভালো। সত্যি তার কথাগুলো শুনলে অনেক ভালো লাগে।
মাঝেমধ্যে আমি মহিলাটির সঙ্গে কথা বলি এবং অনেক কিছু জানার চেষ্টা করি। ঈদের দিন আমাদের এইখানে মহিলাটি নাস্তা করলো। এবং মহিলার মুখ থেকে আমি অনেক কথা শুনেছিলাম। তখন মহিলাটি আমাকে বলল অল্প বয়সে তার হাজবেন্ড মারা যাওয়ার পর। সেই তিনটি ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্ট করে লালন পালন করে বড় করেছে। আর মেয়েটিকে সেই দেখেশুনে বিয়ে দিয়েছে। এবং মেয়েটির হাজবেন্ডের অবস্থা তেমন ভালো না। আমি তাকে কিছু হেল্প করব সেইরকমও আমার ব্যবস্থা নেই। তবে ছেলে দুইজনকে আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে বড় করার চেষ্টা করেছি। বড় ছেলে যখন বড় হয়েছে এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করে। তখন আমি চিন্তা করলাম ছেলেকে বাহিরে পাঠিয়ে দেব।
আসলে এই মহিলা কথাগুলো বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি পড়তেছে। কারণ তার এই কাহিনী আমি আগে তো আমার শাশুড়ির মুখ থেকে শুনেছি। এখন মহিলাটির মুখ থেকে শুনতে চাইলাম আমি এই কারণে একটু একটু করে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম। তবে আমার আত্মীয়-স্বজন অনেক আছে সবার কাছ থেকে টাকা চাইলাম। এবং বাবার বাড়ি থেকে মহিলাটি তার সম্পত্তির ভাগ নিয়ে আসলো। ওই টাকা দিয়ে বড় ছেলেকে সেই বিদেশ পাঠিয়েছে। আর ছোট ছেলে নিয়ে সেই বাড়িতে থাকে। তবে ছেলেটি বিদেশ যাওয়ার পর মায়ের জন্য টাকা দিতেন। তবে মহিলা ছেলে দুজনের নাম হচ্ছে রাসেল এবং রাকিব। বড় ছেলে রাসেল বিদেশ থেকে মায়ের জন্য এবং পরিবারের জন্য টাকা দিত। হয়তো মহিলাটি মনে করল তার কষ্টের দিন চলে গেল।
তবে মহিলাটি এখনো একটি ভাঙ্গা ঘরে থাকে। এরপর মহিলাটি চেষ্টা করতে লাগল পরিবারের উন্নতি করতে। কারণ আগে মহিলাটি কাজ করে ছেলেমেয়েদেরকে খাওয়াতো । অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজে না খেয়ে ছেলেমেয়েদেরকে খাওয়াতেন মহিলাটি। এভাবে মহিলাটির দিন ভালোই যাচ্ছিল। এরপর মহিলাটি তার বড় ছেলেকে বলল ছোট ছেলে বড় হয়েছে বিদেশ যাওয়ার জন্য। তবে বড় ছেলে ছোট ভাইকে বিদেশ নেওয়ার জন্য রাজি ছিল না। এই কারণে তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলো। এদিকে বিদেশ থেকে পাঁচ বছর পর এসে রাসেল বিয়ে করেছে। গ্রামের মধ্যে সেই বিয়ে করল। এবং বউ আসার পর থেকে রাসেল তার মাকে দেখতে পারে না। কারণ অন্যায় দেখলে শাশুড়ি ডাক দেবে এটাই স্বাভাবিক।
এবং রাসেলস ৬ মাস থেকে যখন বিদেশ গেল আবার তার ওয়াইফ কে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। এইখানে সে তার ওয়াইফ কে রাখবে না। কারণ পরিবারের মানুষগুলো ভালো না এই কথা বললে। আর মহিলাটি তার ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে আছে। একদিন ছোট ছেলে রাকিব বলতে লাগলো বড় ভাইকে তোমার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে বিদেশ পাঠিয়েছো। তাহলে আমি কি দোষ করেছি আমাকে বিদেশ পাঠাও। এরপর মহিলাটি তার হাজবেন্ডের সামান্য জমি ছিল তার নামে। সেটি বিক্রি করে ছোট ছেলেকে সে বিদেশ পাঠিয়েছে। মহিলাটি চিন্তা করল এটি তার দায়িত্ব ছোট ছেলেকে বিদেশ পাঠানো। এরপর ছোট ছেলে বিদেশ যাওয়ার পর মোটামুটি কিছু টাকা দিত মায়ের জন্য। বড় ছেলে তো মায়ের জন্য টাকাও দেয় না খোঁজ খবর রাখে না। যাই হোক আজ এই পর্যন্ত পরবর্তীতে পরের পর্ব শেয়ার করব। আশা করি আজকের পর্ব আপনাদের অনেক ভালো লাগবে।(চলবে)
আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজার নাম @bdwomen। আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।
https://x.com/bdwomen2/status/1908514770162180304?t=4ypHseqOq3VzbqL_2M8BsQ&s=19
https://x.com/bdwomen2/status/1908517160827187314?t=LpYGyjz7JgmdhgA5heu0IA&s=19
https://x.com/bdwomen2/status/1908518476672885244?t=2DdDoZrN1pVwgu_pyEqnfQ&s=19
https://x.com/bdwomen2/status/1908519419384652001?t=_AZF5_eHqLGgY2SR18lWbQ&s=19
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
https://x.com/bdwomen2/status/1908520578236957146?t=DD2iM3ejdomuI2Dj2davZg&s=19