ডাইরির শেষ পাতা
ডাইরির শেষ পাতা
কেমন আছো তুমি ? আমি জানি ভালোই আছো। কারণ খারাপ রাখার যে মানুষটা তোমার জীবনে ছিল, সে এখন তোমার কাছে কিংবা তোমার আশেপাশেও নেই। বড্ডো বেশি অভিমানী ছিল সে। সে অভিমান করেই তোমার কাছ থেকে চলে গিয়েছে দূর বহুদূর। তুমি তাকে হয়তো কখনো কাছে পেতে চাওনি কিংবা আপন করে নিতে চাওনি, কিন্তু সে চেয়েছিলো। অনেক বেশি আপন করে নিতে ও অনেক বেশি কাছে টেনে নিতে। তোমার কাছে তার বলা কথা, তার দেয়া যে কোনো কিছু কিংবা তার করা যে কোনো কাজ তোমার বিরক্তির কারণ হতো। আর তোমার বিরক্তি থেকে শুরু করে তোমার সমস্ত কিছুই যেন সে অনেক বেশি ভালোবেশে গ্রহণ করে নিতো। এক কোথায় তোমার সব কিছুই যেন তার কাছে অনেক ভালো লাগতো। কারণ তার মনের মধ্যে তোমার ভাবনা ছাড়া যেন আর কিছুই ছিলোনা।
তুমি কি জানো? তোমার কথা ভেবে ভেবেই সে দিনের বেশির ভাগ সময়টা কাটাতো। রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে তারাদের সাথে তোমাকে নিয়ে গল্প করতো। তুমি কি জানো তোমার জন্য সে কত কি করতো? সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমার জন্য নিজেকে সাজিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতো, যেন একটু খানি ভালোবাসার চোখে তুমি তার দিকে তাকাও। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতো দূর থেকে, আর কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করতো তোমার হৃদয়ে জমানো সকল কথা। কিন্তু কখনো কি সে তোমাকে ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছিলো। না তুমি কখনো তার মনের ভিতরের এতকিছু কখনো ধরতে পেরেছিলে।
তুমি হয়তো ওর সম্পর্কে কোনো কিছুই জানোনা কিংবা জানার আগ্রহ কখনো করোনি কিন্তু সে প্রতি নিয়ত তোমার খোঁজ খবর নিয়েছে, তোমার সম্পর্কে জেনেছে , তোমার কথা ভেবেছে , তোমার মুখে একটু খানি হাসি ফোটানোর অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু তবুও তুমি তাকে বুঝলানা। সময় সবসময় একরকম থাকে না, জানো? সময় বদলে যায়, আর সময়ের সাথে মানুষও পরিবর্তন হয়ে যায়। আর সেই আশায় আশায় অপেক্ষা করেছি আমি বহুদিন বহুকাল কিন্তু তবুও তুমি বদলালেনা। তুমি যেমন আগে ছিলে ঠিক তেমনি রয়ে গেলে। এখনো পর্যন্ত পারিনি আমি আমার দিকে তোমাকে টানতে, পারিনি আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে স্পর্শ করতে, পারেনি আমি তোমার কাছে একজন প্রিয়তমা হতে।
তাই আজ আমি এই তোমাকে মুক্ত করে দিয়ে গেলাম। সাথে করে নিয়ে গেলাম তোমার সকল বিরক্তির কারণ, তোমার কোনো কিছুই যেন আমি আর না ভাবতে পারি কিংবা তোমার কোনো কিছুই যেন আমি আর অনুভব করতে না পারি তাই চলে গেলাম দূর বহুদূর। যেখান থেকে আর কোনোদিন ফিৱে আসবোনা তোমার কাছে। ভাববোনা আর তোমাকে নিয়ে। বাসবোনা ভালো আর তোমাকে। রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে করবোনা আর গল্প এই তোমাকে নিয়ে, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজেকে আর সাজিয়ে প্রস্তুত করবোনা এই তোমার জন্যে। ভালো থেকে তুমি অনেক বেশি এই দুনিয়ার বুকে।
সমাপ্ত
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
এতটা ভালোবাসার পর যদি কেউ অবহেলা করে, তখন সেটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান যুগে কারো কাছ থেকে সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু যে সমস্ত মানুষেরা এতো ভালোবাসা পাওয়ার পরও অবহেলা করে, তারা বোকার রাজ্যে বসবাস করছে। তারা এককথায় সাধা লক্ষী পায়ে ঠেলে দেয়। যাইহোক শেষ পর্যন্ত মুক্ত করে দিয়ে গেল। এমন মানুষকে হারানোর কষ্ট একসময় ঠিকই উপলব্ধি করতে পারবে। যাইহোক গল্পটি পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো আপু। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার ডায়েরির শেষ পাতার লেখাগুলোর মধ্যে একটি অভিমানী মেয়ের বুকের মধ্যে জমে থাকা কষ্টগুলোর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। একটি মানুষ যখন তার সমস্ত সত্তা দিয়ে তার ভালোবাসার মানুষটিকে আগলে রাখতে চায়। কিন্তু মানুষটি যদি তার ভালোবাসার মূল্য না বুঝে তাকে দূরে সরিয়ে দেয় তাহলে এর থেকে কষ্টের আর কিছুই নেই। পৃথিবীতে এরকম নিখাদ ভালোবাসাগুলো কেমন যেন খুব বেশি কষ্ট পায়। তবে এই অকৃত্রিম ভালবাসাগুলো ছেড়ে গেলে অবুঝ মানুষটি একটা সময়ে কেঁদে আর কুল পায় না।
আপনি এক বিচ্ছেদভরা ভালোবাসার ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন সুন্দরভাবে।যেটা পড়ে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে আপু।হয়তো ডাইরির শেষ পাতাগুলো এভাবে বিরহ ও অপূর্ন ইচ্ছেতে ভরে যায়।ধন্যবাদ আপনাকে।
মনে হলো ভালোবাসা হারানো নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে কোন গুরুত্ব না পাওয়া কোন একজন মানুষ অনেক আফসোস নিয়ে লিখেছে কথাগুলো। একসময় সে যার সব বিরক্তি দূর করে দিতে চাইত। সে যখন জানলো সেই তার বিরক্তির কারণ। তখন সে একেবারে তার জীবন থেকে সরে যায়। চলে যায় অনেক দূরে। কারণ সে যে অনেক অভিমানী। লেখাটা পড়ে একজন মানুষের সম্পর্কে জানলাম যে কীনা ভালোবাসায় ব্যর্থ।