।। প্রতিযোগিতা-২৪ এ আমার অংশগ্রহণ-"ফেলে আসা জীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি" ।। 10% shy-fox beneficiary।।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

২৪শে আশ্বিন ১৪২৯ বাং।
১১ই অক্টোবর/২০২২ইং।
রোজঃ মঙ্গলবার।

বন্ধুরা, নমস্কার/আদাব
আমি @amitab বাংলাদেশ থেকে "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার বাংলা ভাষাভাষী সকল বন্ধুদের জানাই শরৎ ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্য কাশফুলের শুভেচ্ছা। আশারাখি সকলেই ভাল আছেন, আমিও ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সামনে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতা-২৪ এ অংশগ্রহণ পূর্বক ফেলে আসা জীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি এর কিছু কথা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আশা করি সকলকে ভাল লাগবে।

thai-1822451.jpg image source

।।ফেলে আসা জীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি।।

বন্ধুত্ব এমন একটি জিনিস যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্মৃতি হয়ে থাকে হৃদয়ের গভীরে। যা কখনো ভোলা বা মোছা যায় না। আর বন্ধুত্বের কখনোই স্বার্থ থাকে না। নিঃস্বার্থতার নামই বন্ধুত্ব। ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন পর্যন্ত মানুষের জীবনে নানান রকমের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে। কিন্তু এর মধ্যে হাই স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব আমার কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। হাই স্কুল জীবনে আমার সহপাঠী পাঁচজনের বন্ধুত্ব ছিল একই সুতোয় গাঁথা। যা আজ পর্যন্ত চলমান রয়েছে এবং থাকবে সারা জীবন। আর সেই বন্ধুত্বের ফেলে আসা স্মৃতিগুলোই আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
১৯৮৫ইং সাল থেকে১৯৮৯ ইং সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত আমাদের পাঁচ বন্ধুর একটা ও অটুট বন্ধন। স্কুল জীবনে অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গেও আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এরমধ্যে আমি সহ নুরুন্নবী রাজু, লিটন মিয়া, আনজারুল হক ও প্রদীপ কুমার রায় এই পাঁচজনের বন্ধুত্ব যে ছিল আমাদের খুবই দুর্দান্ত ও চঞ্চল প্রকৃতির। সকলের বাড়ি ছিল আমাদের স্কুল ও স্কুল সংলগ্ন বাজার এলাকায়। আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে স্কুল জীবনে অসংখ্য দুর্দান্ত দুর্দান্ত দুষ্টুমি করেছি।
কোনদিন স্কুলে আসতে বাড়িতে কাহারো কোন সমস্যা থাকলে, সেদিন পাঁচজনই স্কুলে অনুপস্থিত থাকতাম। অসংখ্য দিন পাঁচ বন্ধু মিলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সাত কিলোমিটার দূরে শঠিবাড়ীতে সিনেমা হলে ছবি দেখতে যেতাম। স্কুলের সহকারীদের সঙ্গে পাঁচ বন্ধুর মধ্যে কারো ঝগড়া হলে সকলে একসঙ্গে মিলে উত্তম মাধ্যম দিতাম। বাস বন্ধু মিলে স্কুলের ক্লাসরুমে সামনের ব্রেঞ্চে বসতাম। কোন বন্ধুর স্কুলে আসতে দেরি হলে ওর জন্য সামনের বেঞ্চে নিজের বই রেখে দিতাম। স্কুলের পড়াতে কেউ দুর্বল থাকলে সকলে মিলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতাম। স্কুলে এসে কেউ কাউকে ছেড়ে কিছু খেতাম না, যা খাইতাম পাঁচ বন্ধু মিলে খাইতাম। জাতীয় দিবস গুলোতে স্কুলের বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে পাঁচ বন্ধু মিলে গান, কৌতুক, অভিনয়, নাটক ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতাম।
আমাদের এই পাঁচ বন্ধুর বন্ধুত্ব দেখে স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের নাম দিয়েছিল ফাইভ স্টার। মোটকথা আমরা পাঁচজন দুষ্টুমি থেকে শুরু পড়াশুনাতেও ছিলাম অলরাউন্ডার। মাঝেমধ্যে পাঁচ বন্ধু পালা করে একরাত্রি করে পাঁচ বন্ধুর বাড়িতেই থাকতাম। যাইহোক এভাবেই এসএসসি পরীক্ষা চলে আসলো। এসএসসির টেস্ট পরীক্ষা দেয়ার পর আমি কঠিন অসুস্থ হয়ে পড়লাম। ব্রংকাইটিস রোগে আক্রান্ত হলাম। খুবই দুর্বল হয়ে পড়লাম। কোন রকমে ইস্কুলে অংকের টিচারের নিকট প্রাইভেট পড়তাম পাঁচজনে। কিন্তু আমাদের ইংলিশ টিচারের বাসা ৫ কিলোমিটার দূরে। বিকেল করে সেই ইংলিশ টিচারের বাসায় বাইসাইকেল যোগে যেতে হবে ইংলিশের গ্রামেটিক্যাল পড়ার জন্য। কিন্তু আমি এতটাই দুর্বল যে সামান্য একটু হেঁটে যেতেই আমাকে বসে দম নিতে হয়।কিছুতেই সাইকেল চালাতে পারি না। কিন্তু পরীক্ষার মাত্র ৩ মাস বাকি ইংলিশে প্রাইভেট পড়তেই হবে।
দুই মাস ইংলিশ প্রাইভেট পড়েছি পাঁচ বন্ধু মিলে। প্রতিদিন আমার এই চার বন্ধু পালা করে আমাকে সাইকেলের পিছনে বসিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ইংলিশ টিচারের বাসায় নিয়ে যেত আবার নিয়ে আসতো। কখনোই পড়াশোনার কোন কাজেই আমাকে ওরা ফেলতো না। সে যে কি কষ্ট তখন ছিল কাচা রাস্তা। কখনোই বিরক্ত বোধ করত না আমাকে নিয়ে তারা বরং চার বন্ধুর এই প্রচন্ড সহানুভূতি ছিল আমার উপরে। এভাবেই এসএসসি পরীক্ষা সিট প্লান করি একসঙ্গে। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে পাঁচ বন্ধুই পাস করি সুনামের সাথে। কলেজ জীবনে দুই বন্ধু আমিও আনজারুল হক একই কলেজে ভর্তি হই। নুরুন্নবী রাজু চান্স পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রদীপ কুমার রায় ও চান্স পায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরেও প্রতি সপ্তাহেই ডাকযোগে ওদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে।
বর্তমানে পাঁচ বন্ধুর মধ্যে প্রদীপ কুমার রায় কর্মজীবনে জেলা জজ, নুরুন্নবী রাজু অধ্যক্ষ ভেন্ডাবাড়ি মহিলা কলেজ, লিটন মিয়া টিচার সরকারি প্রাইমারি স্কুল এবং আমি ও আঞ্জারুল হক সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে সেই আগের মত। এখনো একে অপরকে আমরা আপদে বিপদে সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি। আজীবন থাকবে আমাদের এই বন্ধুত্ব।

2N61tyyncFaFVtpM8rCsJzDgecVMtkz4jpzBsszXjhqan9xBEnshRDSVua5J9tfneqYmTykad6e45JWJ8nD2xQm2GCLhDHXW9g25SxugWCoAi3D22U3571jpHMFrwvchLVQhxhATMitu.gif

বন্ধুরা, এ ছিল আজকে আমার আমার বাংলা ব্লগ কর্তৃক আয়োজিত ফেলে আসা জীবনের বন্ধুত্বের স্মৃতি। আজ এ পর্যন্তই, আবার কথা হবে আগামীকাল অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সে পর্যন্ত সকলেই ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন, শুভ রাত্রি।

k75bsZMwYNtze9xHvT6xWCdz7q3QGD35ZKdaPpVrFksWkH68jVCNK4hKZwCGfUMBFP8ZsUJgfSSBfzXnu7zpWkg5zGzFwka5KMkG7dT2yTrZYwE6LM85iWR2zCzbpbtGXnNUJuioFxovEYAGN2FJd85aUUR7tXXgz.png

নামশ্রী ফণিভূষণ রায় অমিতাব।
User Id@amitab
CameraSymphony Mobile phone.
Mobile Phone ModelZ-35.
My AddressVendabari Prigonj Rangpur Bangladesh.

Writing location

Sort:  
 4 years ago 

আপনার স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ও গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ছিল আপনাদের। পাঁচ বন্ধু মিলে খুব সুন্দর দিন কাটিয়েছেন তা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। বর্তমানে সবগুলো খুব ভালো ভালো পোস্টের চাকরি করতেছে। এবং আপনি সাংবাদিক পেশায় জড়িত। অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

 4 years ago 

জি আপু, স্কুল জীবনের বন্ধুত্বে কখনো ভোলার নয়। প্রত্যেকের জীবনেই ছাত্র জীবনের স্মৃতি গুলো অম্লান হয়ে রয়েছে। মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 63036.76
ETH 1783.98
USDT 1.00
SBD 0.38