ঘূর্ণিঝড়steemCreated with Sketch.

in Bulls Mind4 years ago

পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশ এর দিকে ধেয়ে আসছে, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এমন পূর্বাভাস পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। কারণ ইতঃপূর্বে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সীডর এর চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলাম আমি নিজে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত গভীর হতেই ঝড়ের তীব্রতা বেড়েই চলছিল। দুশ্চিন্তায় রাত এর ঘুম গেল হারিয়ে। ছোট চাচা ফোন দিয়ে বললেন মংলা বন্দর এলাকায় কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ত কয়েক ফুট উচ্চতায় পানি উঠে পড়বে। এদিকে বাতাসের তীব্রতায় কংক্রিটের বিল্ডিং কেঁপে কেঁপে উঠছে। চারতলা বিল্ডিং এর জানালা দিয়ে পাশে থাকা বড় রেইনট্রি কড়ই গাছের দিকে তাকালেই গা শিউরে উঠছিল। উঁচু ডালগুলো বাতাসের ঝাপটায় অবলীলায় ধানক্ষেতের নরম শীষের মত দুলছিল; আর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায়ও সাঁ সাঁ শব্দ জানান দিয়ে যাচ্ছিল ঘূর্ণিঝড়ের হালনাগাদ তথ্য। একেকটা ঝড়ো বাতাসে বেঁচে থাকার আশা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ জেগে থাকা যায়! তাই একটা সময় মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে যখন ঘুম থেকে জীবিত উঠলাম আর জানালা দিয়ে রাতের ঝড়ো হাওয়ার পরিবর্তে শান্ত স্নিগ্ধ সকাল উপহার পেলাম তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বশক্তিমান দয়াময় মহান প্রভুর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করলাম। বাংলাদেশে প্রতি বছর ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোতে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকার মানুষজন কী পরিমাণ আতঙ্কগ্রস্ত থাকে তা উপলব্ধি করাতে আমার এই ক্ষুদ্র স্মরণিকা।


tornado-2650668_960_720.jpg

ঘূর্ণিঝড় এর নামকরণ কীভাবে এবং কেন করা হয়?
ঘূর্ণিঝড় এর নামকরণের ব্যাপারটি বছরের শুরুতেই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী রাষ্ট্রগুলো নিয়ে গঠিত ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (এসক্যাপ) এর ৮ সদস্যের প্যানেল সকলের সম্মতির ভিত্তিতে নামকরণের দায়িত্বটি পালন করে থাকে। প্রশ্ন হল ঘূর্ণিঝড় এর নাম দিয়ে কী হবে? এর ব্যাখ্যা হচ্ছে- কখন, কোথায়, কোন ঝড় হয় তা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। ১৯৪৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। পূর্বনির্ধারিত একটি নামের তালিকা থেকে একেকটি ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। আবহাওয়া স্টেশনগুলো থেকে সংগৃহীত ঝড়ের তথ্য সবাইকে জানানো, সমুদ্র উপকূলে সবাইকে সতর্ক করা, বিভিন্ন সংকেত এবং জলযানগুলোর জন্য ঝড়ের খবর খুব সহজভাবে আদান প্রদান করার জন্যই মূলত ঝড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে।

ঘূর্ণিঝড় কীভাবে সৃষ্টি হয়?
গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপ খাড়াভাবে পৃথিবীর উপর (বিষুব রেখা বরাবর) পড়ে। তাতে করে ঐ এলাকার বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যায় বেড়ে। আর তাপমাত্রা বেড়ে গরম হয়ে যাওয়া বায়ু অন্য বায়ুর তুলনায় হয়ে যায় হালকা। তুলনামূলকভাবে ভারী বায়ুগুলোকে নিচে রেখে হালকা বায়ু গুলো উঠে যায় উপরে। এতে করে নিচের বায়ুমণ্ডলের বায়ুর চাপ কমে যায়। আশেপাশের এলাকার বায়ুর সাথে দেখা দেয় চাপের তারতম্য। আর এই দুই এলাকার চাপ সমান করতে সমুদ্র থেকে প্রবল বেগে ছুটে আসে বাতাস। আর সেই প্রবল বেগে ছুটে আসা বাতাসকেই আমরা বলি ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের বেগ সবচেয়ে কম থাকে যাকে বলা হয় “চোখ”, এরপরের স্তরগুলি যথাক্রমে “আইওয়াল” ও “রেইন ব্যান্ডস"।

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 65672.91
ETH 1771.95
USDT 1.00
SBD 0.44