বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জাতীয় পতাকা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক
বাংলাদেশ এবং ভারত দুটা আলাদা আলাদা দেশ হলেও এই দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ঐশ্বর্যপূর্ণ সবগুলো বিষয়বস্তু কিন্তু একে অপরের সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত। আমরা যেরকম ভারতবর্ষের একটি অংশ ছিলাম এবং আমরাও কিন্তু ভারত বর্ষের অনেক বড় একটি ইতিহাস বহন করি। এই বিষয়গুলো বর্তমানে কেন জানি ধোয়াসার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে কিছু কিছু মানুষ এবং রাজনীতির কারণে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে, যেটা আমরা দুই দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই চাই না।
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ এর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো ভারত সরকার এবং সেই সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে কিন্তু আমরা নতুন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে একটি মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছি। যা সবাই বাংলাদেশ নামে চেনেন। কিন্তু বর্তমানে এই দেশের সাথে বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনৈতিক তেমন ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে না। কিন্তু আমরা তো জানি আমরা সাধারণ মানুষরা একে অপরকে ভালোবাসি একে অপরের ঐতিহ্যকে সম্মান করতে জানি, একে অপরের ভালোলাগা ভালো-মন্দ এবং আবেগপূর্ণ বিষয়গুলো আমরা সবসময় মেনে চলার চেষ্টা করি।
প্রত্যেকটি দেশের জাতীয় পতাকাই হচ্ছে সেই দেশের সম্মান এবং আবেগের জায়গা। যখন সেই জাতীয় পতাকা নিয়ে অন্য কেউ মশকরা করে কিংবা অপমাননা করে সেটা সেই দেশের জন্য অনেকটাই লজ্জাকর এবং নিন্দনীয় কাজ বলে আমি ব্যক্তিগতভাবেই মনে করি, এবং মানুষ হিসেবে এটা কখনোই করা ঠিক নয়। প্রতিটি দেশের পতাকা সেই দেশের সার্বভৌমত্বকে রিপ্রেসেন্ট করে। সেই দেশের জাতীয় প্রতীক হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং যখন এই জাতীয় পতাকাকে অপমান করা হয় তখন সেই দেশের মানুষের আবেগের জায়গায় কষ্ট লাগবে এই বিষয়টা একদমই স্বাভাবিক, সেটা ব্যতিক্রম কিছু নয়। বর্তমান কিছু সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে এসব বিষয়গুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। রাজনীতির জাল এবং একে অপরের শত্রু হিসেবে পরিণত করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। তবে আমরা তো জানি এটা আমরা সাধারণ মানুষ চাই না, আমরা সাধারণ মানুষ একে অপরের পরিপূরক হয়ে বাঁচতে চাই। একে অপরের পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বাঁচতে চাই। একে অপরকে সহযোগিতা পূর্ণ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে চিরদিন একসাথে থাকতে চাই।
আমি যেমন আমার দেশের পতাকাকে সম্মান করি ঠিক তেমনি ভাবে ভারতের পতাকাকেও সম্মান করি। আর যাই হোক না কেন সার্বভৌমত্বকে এবং স্বাধীন পতাকার প্রতি অসম্মান জানানোর মতো নিন্দনীয় কাজ আমরা কখনোই করতে পারি না। যদিও সেখানের রাজনীতির কিছু বিষয় রয়েছে এবং সেসব বিষয়ে যাচ্ছি না। আমি ব্যক্তিগতভাবেই আমাদের জাতীয় পতাকাকে যেরকম সম্মান করি ঠিক তেমনি ভারতের জাতীয় পতাকাকেও তেমনিভাবে সম্মান করি এবং সম্মান চিরতরে থাকবে। আমরা অতীতে এক ছিলাম, একই খন্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যদিও কোন কারনে বিভক্ত হয়ে গেছি। কিন্তু তারপরও আমাদের অতীতকে ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের বড় ইতিহাস রয়েছে, ভারতবর্ষের ইতিহাস। এই ইতিহাসের অংশ কিন্তু আমরা ছিলাম। তো সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমাদের একে অপরের প্রতি সম্মান জানানো উচিত, একে অপরের পতাকার প্রতি সম্মান জানানো উচিত তাহলেই তো আমরা এক হয়ে থাকতে পারবো, ভালোবাসার বন্ধনের মাধ্যমে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জাতীয় পতাকা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
আমরা চিরকালই রাজনীতি আর লোভের স্বীকার হয়েছি৷ সেই দেশভাগ থেকেই৷ উলু খগড়ারর মতো প্রাণ দিয়ে গেছে আমাদের পূর্বপুরুষেরা, আর নেতাদের ঢুকিয়ে দেওয়া ঘুনে জর্জরিত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছি৷ একটা সমৃদ্ধশালী জাতিকে শেষ করে দেওয়া কত সহজ হল সেটাই ভাবি৷
নিজেদের দেশের পতাকা কে যেমন সম্মান জানানো উচিত, ঠিক তেমনি ভাবে অন্যান্য সব দেশের পতাকেও সম্মান জানানো উচিত। ভালোবাসার বন্ধনের মাধ্যমে সবার উচিত সুন্দর ভাবে সম্পর্কটা গড়ে তোলা। একে অপরের পাশে আমরা সব সময় থাকতে চাই আগের মত। এসব হিংসাকে দূরে রাখতে চাই সবার থেকে। দুই দেশের বন্ধুত্বটা যেন সুন্দর থাকে এটাই চাই।
নিজের দেশের পতাকার অবমাননা করলে সেটা কেউ মেনে নিতে পারে না। পতাকার অবমাননা করার মতো নিকৃষ্ট কাজ থেকে সবারই বিরত থাকা উচিত। সর্বোপরি আমরা চাই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। এতে করে উভয় পক্ষের-ই লাভ। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রত্যেকটি দেশের জাতীয় পতাকা শুধু সেই দেশের জন্য নয় সারা পৃথিবীর কাছে সম্মানীয়। অনেক কষ্ট করে জাতীয় পতাকা অর্জন করতে হয়। কোন দেশের জাতীয় পতাকাকেই অসম্মান করা উচিত বলে মনে। তুমি খুব সুন্দর একটি বিষয়কে ব্যাখ্যা সমেত পোস্ট করলে। ভারত বাংলাদেশ পুরনো বন্ধুত্ব যেন আজীবন অটুট থাকে। দায়িত্বশীল নাগরিকের এখন এটাই শুধু প্রার্থনা করে যাওয়া উচিত।