খোলা আকাশের নিচে ইফতার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আমিও ভালো আছি। এইতো গত দুদিন হল ঢাকা থেকে নীলফামারীতে এসেছি এবং ঢাকায় থাকাকালীন অবস্থায় অনেকটা ব্যস্ততম সময় পার করেছিলাম তারপরও নিজের জন্য একটু সময় বের করেছিলাম। আসলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিজেকে সময় দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং এই বিষয়টা আমি প্রায়ই করে থাকি। মাঝে মধ্যে বন্ধুদের সাথে যে কোথাও আড্ডা দেওয়া।
যেহেতু রোজার মাস চলছে সেহেতু বাহিরে আর কোথাও কারো সাথে আড্ডা তেমন ভাবে দেওয়া হয় না। তবে বন্ধুদের সাথে ইফতার করার কিন্তু মজাই আলাদা। এইতো গত শুক্রবার আমাদের ভার্সিটিতে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সকল বন্ধুরা মিলে সেখানে ইফতার করেছিলাম এবং আমাদের ভার্সিটি থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমাদেরকে শেয়ার করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলো তো প্রায়ই হয়ে থাকে এবং আমাদের যেসব ইফতার পার্টি হয়ে থাকে সেগুলো বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কিংবা কোন অফিসে হয়ে থাকে। তবে আমি এবং আমার দুজন বন্ধুরা চিন্তা করেছিলাম এবার ইফতার করব খোলা আকাশের নিচে।
ঢাকা শহরে এমন প্লেস খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর একটি বিষয়। এরকম খোলা জায়গা রয়েছে হাতিরঝিলে এবং আরো বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে ঢাকার মাঝে। তবে আমরা বেছে নিয়েছিলাম সহোরাউদ্দি উদ্যান যেটাকে অনেক জিয়া উদ্যান নামেও চিনে থাকেন। মূলত সেদিন কোন পরিকল্পনাই ছিল না। আমার ভার্সিটি ছিল একদম বিকাল পর্যন্ত এবং আমাদের যারা সহপাঠী রয়েছে একসাথে আমরা ক্লাস করি সাথে পড়াশোনা করি তার সিদ্ধান্ত নিল যে আজকে ও খোলা আকাশের নিচে কোথাও গিয়ে ইফতার করব। তাই আমরা ভার্সিটি থেকে বের হয়ে সেই উদ্যানে গেলাম এবং সেখানেই ইফতারের আয়োজন করলাম। হাতে সময় অনেক অল্প ছিল। ইফতার কোন ভাবে কিনে সেখানে বসে ইফতার সেরে ফেলেছিলাম।
সব মিলিয়ে ঢাকার মধ্যে কখনোই খোলা আকাশের নিচে ইফতার করা হয়নি। এই বিষয়টা আমার কাছেও অনেকটা নতুন একটি বিষয় ছিল এবং অনেক ভালো লেগেছিল। সেই সাথে এখন শীতের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। ঢাকা শহর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ো হাওয়া বইছে। যদি ও এটাকে আমরা ঝড় বলতে পারি না। তবে বাতাসে তীব্রতা অনেক বেশি এবং সেরকম একটি পরিবেশে ইফতার করা বা বসে থাকার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ কাজ করে। যেই অনুভূতিটা আমরা অনুভব করেছিলাম সেদিন সন্ধ্যায়।
সব মিলিয়ে অনেকটা ভালো সময় পার করেছিলাম সেদিন এবং তিন চারজন বন্ধু-বান্ধব মিলে অনেকটা এনজয় করেছিলাম পরবর্তীতে ইফতার শেষ করে সেখান থেকে আমরা আবার যে যার বাসায় চলে যাই আসলে যাদের সাথে আমরা পড়াশোনা করি তারা আসলে এক জায়গায় আমরা থাকতে পারি না প্রত্যেকেই বিভিন্ন ধরনের চাকরির সাথে জড়িত এবং ছুটি নিয়ে সাধারণ ইফতারের আয়োজন করতে হয় তাই এসব বিষয়গুলো আমাদের সকলের জন্য অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের ব্যাপার।যাই হোক আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: খোলা আকাশের নিচে ইফতার
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
খোলা আকাশের নিচে বসে বন্ধুদের সাথে ইফতার করার মজাই আলাদা। একসময় আমরা মাঝেমধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসে ইফতার করতাম সবাই মিলে। সেই দিনগুলো সত্যিই খুব মিস করি। যাইহোক ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের সাথে উদ্যানে বসে বেশ মজা করে ইফতার করেছেন ভাই। বেশ ভালো লাগলো পোস্টটি পড়ে। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে মন ভালো থাকে। সেই সাথে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও কাজ থেকে দূরে থাকা যায়। আর এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বন্ধুরা মিলে ইফতারি করার মজাই অন্য রকম। আমি যখন ভার্সিটি পড়তাম তখন হলের বন্ধুরা মিলে এভাবে খোলা আকাশের নিচে ইফতার করতাম। আপনার ইফতারি করার গল্প পড়ে সেই কথাই মনে পরে গেলো। বেশ ভালো কিছুটা সময় কাটিয়েছেন বন্ধুদের সাথে। সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
কয়েকদিন যাবত ফেসবুকে প্রবেশ করলেও বন্ধুরা মিলে খোলা আকাশের নিচে ইফতার করার ফটোগ্রাফি দেখতে পাই। গাছের নিচে নদীর পাশে পুকুর পাড়ে বসে বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে ইফতার করার অনুভূতি লিখে বা বলে শেষ করা যাবে না। আপনারা বন্ধুবান্ধব মিলে খোলা আকাশের নিচে ইফতার করেছেন শুনে খুবই খুশি হলাম। আমরা এই দিনটি খুবই মিস করতেছি।
আপনার ইফতার করার অভিজ্ঞতা শুনে খুবই ভালো লাগলো। খোলা আকাশের নিচে ইফতার করার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম হয়। বিশেষ করে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে এমন একটা মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পারা। ঢাকায় এত ব্যস্ততার মাঝেও এমন একটা সময় কাটানো দারুণ। শীতের শেষ পর্যায়ে ঝোড়ো হাওয়ায় ইফতার করা আরও একরকম তাজা অনুভূতি এনে দেয়। আশা করি, ভবিষ্যতে আরো এমন মধুর মুহূর্ত কাটাতে পারবেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।
তিন চার জন বন্ধু মিলে খোলা আকাশের নিচে অনেক আনন্দ করেছ দেখে ভালো লাগছে। কয়েকজন মিলে এমন আনন্দ করতে বেশ ভালো লাগে এবং খুব সুন্দর সময় কেটে যায়। আর সারাদিন না খেয়ে ইফতারিতে সকলে মিলে আনন্দ করার অনুভূতি আলাদা বলে আমার মনে হয়। সুন্দর একটি অভিজ্ঞতামূলক পোস্ট আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছ।