নীলফামারী টু ঢাকা
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তালার অশেষ রহমতে আমিও মোটামুটি ভালো এবং সুস্থ রয়েছি। তবে এই জার্নি করেছিলাম আজ থেকে দুদিন আগে। কিন্তু জার্নি করেই একটু শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। তার কারণে দুদিন কোন ধরনের পোস্ট করতে পারেনি। তাই ভাবলাম সেই জার্নির ঘটনাগুলো আপনাদের সাথে একটু শেয়ার করে নেই, তবে চলুন শুরু করা যাক।
আমি টিকিট কেটেছিলাম ১ তারিখ রাতের বেলা ঠিক রাত ৯ টার দিকে গাড়ি ছিল। কিন্তু গাড়ি আসতে একটু লেট করেছিল প্রায় 9:15 এর দিকে আমাদের গাড়ি ছেড়ে যায় নীলফামারী কাউন্টার থেকে। সবকিছু মোটামুটি ভালোই যাচ্ছিল এবং এবার আমি নাবিল বাসের মধ্যে গিয়েছিলাম। যদিও আমি নাবিলের মধ্যে খুব একটা বেশি যাতায়াত করছিলাম না। যেহেতু অনেক বেশি শীত পড়েছিল তাই আর এসি গাড়িতে না আসে নর্মাল একটি গাড়িতেই টিকিট কেটেছিলাম।
যাই হোক গাড়িতে উঠেই অনেক খারাপ লাগছিল কারণ পরিবারের সকলকে ছেড়ে এসেছি এবং প্রায় প্রত্যেকেরই শরীর খারাপ ছিল বিশেষ করে আমার মায়ের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তো লেগেই রয়েছে। ডায়াবেটিস এবং প্রসার জনিত সমস্যা উঠানামা করছে। এছাড়াও আমার বউয়েরও নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তাদেরকে এভাবে রেখেই আমাকে চলে আসতে হচ্ছে।
যাইহোক গাড়িতে উঠেই সব কিছু ভালই যাচ্ছিল রংপুর পার হয়ে যাওয়ার পরেই হঠাৎ করে আমাদের গাড়িটা কেন জানি নষ্ট হয়ে গেল। রাস্তার এক সাইডে আমাদের গাড়িকে ব্রেক করানো হল। প্রায় অনেকক্ষণ সময় ধরেই আমাদের গাড়ির ড্রাইভার হেলপার এবং সুপারভাইজার মিলেই গাড়ির ইঞ্জিন চেক দিচ্ছিল। সব মিলিয়ে সেখানে আমরা দুই ঘন্টা যাবত অপেক্ষা করছিলাম। তারপর ও গাড়ি কোনভাবেই ঠিক হচ্ছিল না। পরবর্তীতে ড্রাইভার কোন ভাবে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করে আশেপাশের একটি পেট্রোল পাম্প এ গিয়ে দাঁড় করায়।
গাড়ির হঠাৎ করে এমন সমস্যা দিয়েছে গাড়ি কোনভাবেই আর ঢাকা পর্যন্ত যেতে পারবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন গাড়ির সাথে কথা বলে এবং নাবিলের হেড অফিসের সাথে কথা বলে যদিও আমাদের উত্তরবঙ্গে অনেক নাবিল গাড়ি চলে তাই এটা নিয়ে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। পরবর্তীতে যখন অন্য নাবিল গাড়ি আসলো সেই কাউন্টারে সেখান থেকে অল্প অল্প কিছু সংখ্যক মানুষদের নতুন নতুন গাড়িতে করে তুলে দেওয়া হচ্ছিল। আমাদেরকে যেই গাড়িতে চড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একদম পিছনের সিটে আমাকে বসতে হয়েছিল। যার কারণে অবস্থা একেবারেই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
এমনিতেই নাবিল গাড়ি গুলো অনেক স্পিডে গাড়ি চালায় যেটা আমরা সেই দিনই প্রমাণিত হয়েছি। এছাড়াও পিছনের সিটে বসার পরে আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছিল। গাড়ি দ্রুত ব্রেক করছিল আবার ঝাকি দিচ্ছিল যার কারণে মনে হচ্ছে মাঝেমধ্যে হাওয়ায় ভাসছিলাম। আমার এতটাই জোরে জোরে ধাক্কা লাগছিল। সব মিলিয়ে কোমরের অবস্থা বারোটা বেড়ে যায়।
যদিও আমাদের অনেক ঘন্টা লেট হয়ে গিয়েছিল তারপরও এত জোরে গাড়ী চালিয়েছিলো যার কারণে সকাল ছয়টার দিকে ঢাকায় আমাদেরকে নামিয়ে দেয় এবং সেখান থেকে আবার বাসায় এসে এতটাই অস্থির লাগছিল। একদম শুয়ে পড়েছিলাম এবং অনেকটা জ্বর চলে এসেছিল। আজ একটু সুস্থ লাগছে তাই আবার কাজে ফিরে আসলাম। যাইহোক আপনাদের কি এরকম তেমন কোন ট্রাভেলিং এর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদি থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্যে জানাতে পারেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আপনার শরীর ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সকলকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: নীলফামারী টু ঢাকা
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......