অকৃতজ্ঞ বড় ভাই

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম

আসসালামু আলাইকুম

শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।

প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।


man-1283235_1280.jpg

আজ আমি আপনাদের, বিশ্বাস নিয়ে কিছু কথা বলব আপনাদের মাঝে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে আজ আমি একটি গল্প লিখতেছি। আসলে একদমই বাস্তবিক নিজের চোখে দেখা গল্প। আশা করি আপনাদের সবার অনেক বেশি ভালো লাগবে।

একজন শিক্ষকের বড় ছেলেকে নিয়ে গল্পটি লিখতেছি। দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা করে তিনটি ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করেছে। বড় ছেলেকে বিএসি পাস করিয়েছে। বড় ছেলে একটি হাইস্কুল এর প্রধান শিক্ষক। মেজ ছেলে প্রবাসে থাকে। এবং ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এখন চাকরি করতেছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের বাবা খুব অসুস্থ। বাবা এবং মা দুজনেই স্টক করেছেন দুইবার করে। এছাড়াও আজ অনেক বছর যাবত তারা খুব অসুস্থ। কিন্তু বর্তমানে মেজ ছেলে বাড়িতে আছে। কিন্তু বড় ভাই কোন প্রকার দেখাশোনা করে না।

দীর্ঘ অনেক বছর যাবত সে বাবার বাড়ি থেকে অনেক দূরে থাকে । অনেক দূরে একটি হাই স্কুল এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা বেতন পায়। স্কুলের মধ্যে অনেক ধরনের ধান্দা রয়েছে। এরপরেও রোজা রমজানের দিন থেকে শুরু করে যেকোনো দিনেও মা-বাবার জন্য এক টাকা খরচ করে না। কিছুদিন আগে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল বাবা। প্রায় ৭-৮ দিন একদম বিছানায় শোয়া ছিল। প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো হাসপাতালে এবং ওষুধে খরচ হয়েছে। একদিনের জন্য ছেলে বাবাকে দেখতে আসে নাই।

একটা ফোন করেও খবর নেনাই তার বাবার। ছোট ছেলে এবং মেজো ছেলে অনেক কষ্টের বিনিময়ে তাকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করেছে। কিন্তু একটি ছেলে প্রবাস থেকে একেবারে দেশে এসে বসে আছে প্রায় এক বছর। তার কাছে কোন প্রকার টাকা পয়সা নাই। কিন্তু এরপরেও প্রায় অনেক টাকা তার খরচ হয়েছে। কিছু টাকা পয়সা ছোট ভাই দিয়েছে। কিন্তু বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সন্তান কেউই তাদের বাবাকে দেখতে আসলো না। মা অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে এ বিষয় নিয়ে। কিছুদিন আগে যখন আমি তাদের বাড়িতে গিয়েছি তখন আমাকে কান্না করে অনেক কথা বলতেছে।

কথাগুলো শুনে আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল। এ ধরনের অকৃতজ্ঞ ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে লাভ নাই। এ ধরনের শিক্ষিত ছেলে থেকে মা-বাবার যদি কোন উপকারে না আসে তাহলে কি লাভ। মায়ের কাছে শুনলাম তাদের জমানো ২ লক্ষ টাকা ছিল। ব্যাংক থেকে প্রতি মাসে ৪০০০ টাকা করে পেত। এছাড়া ছোট ভাইয়ের প্রায় তিন লক্ষ টাকা ছিল। সব টাকা বড় ভাই মেরে দিল। এছাড়াও মেজ ভাই যখন প্রবাসে ছিল সব টাকার বড় ভাইয়ের কাছে পাঠাতো। সে টাকাগুলো তার কাছে থাকতো। অল্প কিছু টাকা মা-বাবাকে দিতো। আমি এই ধরনের শিক্ষিত মানুষকে খুবই ঘৃণা করি। আপনাদের সবাই ঘৃণা করার জন্য আজকের এই পোস্টটি আমি লিখেছি। আশা করি আপনাদের সবার অনেক ভালো লাগবে।

পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।

এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি এই ধরনের ছোট গল্প আরো উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ।

  • অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।

সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।

আমার পরিচিতি

G0mIPwfurEJVlbirXIKFAUZVIuK.jpg

আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।


VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

♥️ আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ 🖤

Sort:  
 3 years ago 

একটা সময় লোভ মানুষকে ধ্বংস করে দিবে, হয়তো বড় ছেলের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হবে। খবর নিয়ে দেখবেন সে মানুষটাও বোধহয় ভালো নেই অকৃতজ্ঞ মানুষ খুব বেশিদিন সুখী থাকতে পারে না।

 3 years ago 

পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসলে বর্তমান সময়ে সব জায়গাতেই এরকম ঘটনা শোনা যাচ্ছে, যে ছেলে মেয়েরা বাপ মাকে দেখেনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বড় ছেলে তার বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেয় কিন্তু এক্ষেত্রে দেখছি ব্যাপারটা পুরো উল্টে গেল। তবে সে যে কাজ করেছে একেবারেই অন্যায় কাজ করেছে। এর শাস্তি তাকে কোন না কোন সময় অবশ্যই পেতে হবে।

 3 years ago 

পোস্টটি পড়ে অনুভূতি জানানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

আমি খেয়াল করে দেখেছি প্রত্যেক পরিবারেই এমন একজন থাকে যে অন্যদের হক মেরে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এমন লোকেরা কখনো সুখী হতে পারেনা।তাদের সাথেও এমন হয়।মন খারাপ হয়ে গেল গল্পটি পড়ে।

 3 years ago 

আসলে আমাদের সমাজে বাস্তবতা এমনই কিছু কিছু ঘটনা দেখলে কষ্ট লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

খুব খারাপ লাগলো গল্পটি পড়ে। অবশ্য এটা নতুন নয়। আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিটি ঘরেই এমন কিছু দেখা যায়। যারা বা যে এমনটা করে সে কখনো সুখি হতে পারে না। এর ফল সে ভোগ করবেই।ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

গল্পটি পড়ে মতামত শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপনার পোস্টটি পড়ে ভাইয়া অনেক খারাপ লাগলো। তবে বর্তমান সমাজে কিছু কিছু শিক্ষিত লোক এমন আছে। যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তারপরও তার কাছ থেকে মা-বাবা কোন ধরনের হেল্প পায় না। তবে আমার মনে হয় মেজু ছেলে মা বাবার জন্য যাহা করতেছে আল্লাহ তাআলা একদিন তাকে দেবে অনেক কিছু। এবং ছোট ছেলেও মোটামুটি বাবার জন্য কিছু করার চেষ্টা করতেছে শুনে ভালো লাগলো। তবে এই ধরনের শিক্ষিত লোকগুলোকে ধিক্কার জানাই যারা মা বাবার জন্য কোন কাজে আসে না। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

 3 years ago 

আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

গল্পটি পড়ে কোথায় যেন বাস্তবতার ছোঁয়া খুঁজে পেলাম। সমাজে খোঁজ করলে প্রায় প্রতিটি ঘরে এমন একজন লোক পাওয়া যাবে যে যে শুধু নিজের স্বার্থ বোঝে। আর সেই লোকটির কারনে একটা সংসার ভেঙে তছনছ হয়ে যায়।

 3 years ago 

গল্পটি বাস্তব ঘটনার অবলম্বনে লেখা ধন্যবাদ ভাই মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

আপনার গল্পটি পড়ে আমার কাছে সত্যি অনেক খারাপ লাগলো। বড় ছেলেকে মা-বাবা পড়ালেখা করিয়ে এত বড় শিক্ষিত করলেন। তার কাছ থেকে মানুষ অনেক কিছু শিখবে। কিন্তু সে মানুষটি মা-বাবার সাথে এমন আচরণ করল সত্যি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এরকম শিক্ষিত লোক অনেকে আছে যারা মা-বাবার খেয়াল করে না। মেজো ছেলেটি যেভাবে বিদেশ থেকে মা-বাবার জন্য টাকা পাঠিয়েছে এবং খেয়াল রেখেছে। এবং বিগত এক বছর যাবত বাড়িতে এসে মা-বাবাকে খুব যত্নসহকারে দেখাশোনা করতেছে। আল্লাহ তাআলা এরফল একদিন তার মেজো ছেলেকে দেবে। মা-বাবাকে করলে একদিন না এক দিন আল্লাহ তাআলা ফল দেবে। অনেক সুন্দর করে গল্পটি আমাদের মাঝে সাজিয়ে লেগেছেন।

 3 years ago 

এত সুন্দর গোছানো মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই‌।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 60235.88
ETH 1578.52
USDT 1.00
SBD 0.42