আমার বাংলা ব্লগ কবিতা উদ্যোগ।। অণু কবিতার আসর-১৩৩
আমার বাংলা ব্লগের নতুন উদ্যোগ- অনু কবিতায় সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি। এটা সম্পূর্ণ সৃজনশীল একটি উদ্যোগ, যেখানে সবাই নিজের ভেতরের প্রতিভাবে একটু ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পাবে। নিজের মনের ভাবকে একটু ছন্দময় কিংবা সহজভাবে কাব্যিক রূপে প্রকাশ করতে হবে। বিষয়টি যেন আরো বেশী আকর্ষণীয় হয়ে উঠে সেই জন্য প্রতিদিন পাঁচজনকে $২.০০ ডলার করে মোট $১০.০০ ডলার এর ভোট দেয়া হবে। তবে যারা নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ করবে পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এবিবি-ফান এর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহের দুই দিন যথাক্রমে শুক্রবার ও রবিবার দুটি পোষ্ট শেয়ার করা হবে, যেখানে লেখকের পছন্দ অনুযায়ী ৪/৬ লাইনের অনু কবিতা সংযুক্ত থাকবে। তার সাথে কবিতা সম্পর্কে লেখকের অনুভূতি থাকবে, যাতে ইউজাররা কিছুটা আইডিয়া নিতে পারে কবিতার বিষয়বস্তু সম্পর্কে। তারপর ইউজারদের কাজ হবে অনু কবিতার লাইনগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজের মতো করে আরো ৪/৬ লাইনের অনু কবিতা লেখা।
এখানে একটা বিষয় অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে, শব্দের জটিলতা কিংবা অর্থের গভীরতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে হবে না বরং সহজভাবে আপনার মনের ভাবটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে এবং কবিতার বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ্য রেখে কবিতাটিকে পূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমরা কঠিন কিংবা দুর্বোধ্য শব্দ দেখবো না বরং আপনি কবিতাটিকে কতটা সুন্দরভাবে পূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন, সেটা দেখার চেষ্টা করবো। আশা করছি সবাই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আমার বাংলা ব্লগের কবিতা উদ্যোগে সকলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি।
আজকের অনু কবিতা
যোগ্যতার নিরূপণ অন্ধকারের ছায়ায়
অযোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কের মায়ায়,
আমি অসম্পূর্ণ- আমি ব্যর্থ তাই
যোগ্যতার করেছিলাম খুব বড়াই।
সময়ের সাথে বাস্তবতার লড়াই
যোগ্যতার সাথে অযোগ্যতার তাই,
তুমি সম্পূর্ণ- তুমি সফলতার হাসি
সম্পর্কের সংযোগে হয়েছো সুখী।
লেখক
লেখক এর অনুভূতি:
সম্পর্কগুলো আজ সকল ক্ষেত্রে সংযোগের স্থল হয়ে উঠছে, অযোগ্য হলেও সেখানে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তাই যোগ্যতা আড়ালে থেকে যাচ্ছে আর সম্পর্কের ছায়ায় অযোগ্যতা সফলতা পাচ্ছে।
অংশগ্রহণের নিয়মাবলীঃ
- উত্তরটি সর্বোচ্চ ৫০ শব্দের মাধ্যমে দিতে হবে।
- একজন ইউজার শুধুমাত্র একবারই উত্তর দিতে পারবে।
- অন্যের উত্তর কপি করা যাবে না।
- উত্তর/কমেন্টটি অবশ্যই উপরের কবিতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে করতে হবে।
- এডাল্ট উত্তর/কমেন্ট দেয়া যাবে না।
- পোষ্টটি অবশ্যই রিস্টিম করতে হবে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
| আমার বাংলা ব্লগের ডিসকর্ডে জয়েন করুনঃ | ডিসকর্ড লিংক |
|---|
যোগ্যতা আজ লোভ পাচ্ছে
অন্ধকারের ছায়ায়,
অযোগ্যরা যোগ্য হচ্ছে
সম্পর্কের মায়ায়।
সময় এবং বাস্তবতার
চলছে যে লড়াই,
অযোগ্যরা যোগ্য হয়ে
দেখাচ্ছে বড়াই।
সফলতার সোনালী সূর্য
তোমার ঠোঁটে দেখে,
ন্যায়ের পথে ছুটছো তুমি
স্বপ্ন সুধা মেখে।
বদলে যাও বদলে দাও
অন্যায় অবিচার,
যোগ্যতারা যোগ্য হোক
এটাই অধিকার।
♥♥
দারুন অণু কবিতা লিখেছেন আপনি, পড়ে বেশ ভালো লাগেলো।
আপনি সব সময়ে সেরা আপু, দারুণ লিখেছেন লাইনগুলো।
অনেক অনেক সুন্দর লিখেছেন আপু এই লাইনগুলো। আমি হাজার চেষ্টা করলেও আপনার মত এত সুন্দর করে কবিতার লাইন তৈরি করতে পারব না । সময় এবং বাস্তবতার যে লড়াই চলছে সেখানে অযোগ্যরাই বড়াই দেখাচ্ছে , এটা একদম বাস্তব চিত্র বর্তমান সমাজের।
আমি আজ হারিয়ে গেছি
অযোগ্যদের ভিড়ে,
তুমিও কভু চেয়ে দেখো নি
পেছনে ফিরে
নিজের করা ভুলে আজ
হারিয়েছি আমি সব
তুচ্ছ অহংকারের মায়ায়
হারিয়ে গেলাম নিকষ ছায়ায়।
আরো সুখী হও তুমি
প্রার্থনা এই করি,
এখনো এই অযোগ্যদের ভিড়ে
তোমাকেই খুজে ফিরি।
যোগ্যদের মূল্য শুধুই তিরস্কারে
অযোগ্যরা তাই যাচ্ছে আকাশ ছুঁয়ে,
আমি স্বাধীনতাপ্রেমী, বোঝাতে ব্যর্থ
তাই যোগ্যতা থেকেও আজ তা অসমাপ্ত।
সময়ের মিশেলে বাস্তবতা বড়ই ঘোলাটে
যোগ্য ও অযোগ্যর পার্থক্য সবসময়-ই সন্নিকটে,
তুমি পরতন্ত্র,অলিখিত সফলতায় সুখী
সম্পর্কগুলি এখন অর্থহীন, বেমানানমুখী।
দারুণ লিখেছেন আপু, সত্যি আপনার ছন্দগুলোর সাথে বাস্তবতার দারুণ মিল রয়েছে।
অনেক অনেক অনুপ্রাণিত হই ভাইয়া আপনার অসাধারণ লেখাগুলি পড়ে,অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🙏।
বাস্তব কথা বলেছেন আপু, যোগ্যদের মূল্য শুধুই তিরস্কারে কথাটি হৃদয়ের খুব গভীরে আঘাত করে।
চেষ্টা করি,সবসময় বাস্তবতা নিয়ে লিখতে ভাইয়া।
মেধা হওয়ার যোগ্যতায় গড়া যে জীবন
স্বজন প্রীতির কাছে হয় তার মরন
যোগ্য মানুষগুলো বড় অসহায়
সজন প্রীতির কাছে পায় না সহায় ।।
বাস্তবতার কষাঘাতে হয়ে কুপোকাত
পাই না কিনার কভু করে হাসফাস
শিক্ষার বেড়াজালে জড়িয়ে নিজে
যোগ্য লোকেদের শুধু দু চোখ ভিজে।।
এটাই হয়তো পরম বাস্তবতা, যোগ্যতার আড়ালে চোখ ভেজা আর অযোগ্যতার সম্মুখে আলোর ছটা।
যোগ্যতা থাকলেও সম্মান নেই,
অযোগ্যতাকেই মূল্যায়ন দেয়।
অন্ধকারের ভিড়ে তলিয়ে যাই আমি,
দক্ষতার ভিড়ে সম্মানের হানি।
সময় আর দুঃসময়ের ব্যবধান,
দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অযোগ্যতার লড়াই।
প্রশান্তি আর অশান্তি দুইটাই ভাই,
অন্ধকারের সাথে সাথে আলোকে চাই।
নিশ্চুপ, নিরবতা এটাই যেন সফলতা,
একটুখানি মুখ খুললে, বয়ানে অসফল।
দুঃখ-দুর্দশা চিরসঙ্গী আমার,
তবুও ভেঙে পড়ে না মনোবল রাখি চিরকাল।
দারুন লিখেছেন আপনি, সময় আর সম্পর্কে ব্যবধানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না অযোগ্যতারা সম্মান পায় সত্যি খুবই বাস্তব কথা।
ঠিক বলেছেন আপু মাঝে মাঝে যোগ্য ব্যক্তিরা সম্মান পায় না। অযোগ্যরাই বেশি মূল্যায়ন পায়। আর যোগ্য ব্যক্তিরা হারিয়ে যায় অন্ধকারে। দারুন লিখেছেন আপনি।
সময়ের সাথে লড়েছি আমি
মেনে নিয়েছি ভাগ্য
জীবন যুদ্ধে পরাজিত আমি
সমাজের কাছে অযোগ্য।
যোগ্যতার মাপকাঠিতে
আমি যে শুধুই শূন্য
এই সমাজে অযোগ্যরা
যেন পরিপূর্ণ।
সফলতার হাসি মুখে
জ্ঞান যে তাদের শূন্য
ধন্য তুমি ধন্য সমাজ
যোগ্যদের অবহেলার জন্য।
জি আপু, সত্যিই সমাজের কাছে যোগ্যতার মাপকাঠিতে অযোগ্য। তাইতো যোগ্যতা শূন্যতায় ভাসে।
আমাদের এই সমাজ অযোগ্য মানুষ দিয়ে পরিপূর্ণ । তাদের জ্ঞানের ভান্ডার শূন্য হলেও সফলতার হাসি তাদের মুখেই দেখা যায়, এটা ঠিক কথা। অনেক সুন্দর লিখেছেন আপু লাইন গুলো।
অযোগ্যতার ভিড়ের মাঝে আজ হারায় যোগ্যতা।
মামা খালুর জোরে আজ, অযোগ্যতার মাথায় ছাতা।
অযোগ্যরা আছে ক্ষমতায়, যোগ্যরা ক্ষমতাহীন।
নিপীড়িত মানবতা দিন দিন হচ্ছে বিলীন।
যোগ্যতার নিরুপন তোষামোদের ছায়ায়
অযোগ্যের মূল্যায়ন ছলচাতুরীর কায়ায়,
আমি আনন্দিত- আমি আহ্লাদিত
প্রাপ্তির ভাগে করছি খুব বড়াই।
সময়ের সাথে পরিস্থিতির আভাস
খুব কুড়িয়েছি সাবাস সাবাস,
তুমি আনন্দিত- তুমি ভাসছো সুখের সাগরে
সম্পর্কের আড়ালে তুমি বড্ড মূল্যবান।
আপনার লেখা প্রতিটি শব্দ, যোগ্যতার নিরুপন তোষামোদের ছায়ায়
অযোগ্যের মূল্যায়ন ছলচাতুরীর কায়ায়। বর্তমান সমাজের সাথে মিল রয়েছে ভাই।
যোগ্যতা ও অযোগ্যতার খেলায়,
আমরা হয়েছি অসহায়।
যোগ্যতা ছিল তবে কর্মখালি নাই
ওই যে তাদের আপন মানুষ নিয়ে গেছে তাই!
এই লড়াই আমরা যতই করে যাই
সমাধান এর আসবে কিছু, সেই বিশ্বাস নাই।
তেলের যে দাম
যোগ্যতার নাই কোন দাম
অযোগ্য মানুষ মূল্যায়ন পায়
আত্মীয়তার স্বার্থে।
বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে
যোগ্যতার কোন দাম নেই যে
টাকা ছাড়া অসম্পূর্ণ জীবন
যতই যোগ্যতা সম্পন্ন হোক না কেন
টাকা না থাকলে তুমিও ব্যর্থ
অযোগ্য হলেও
তুমিও সফল।
বাস্তবতা টা অনেক কঠিন। যোগ্যতার তেমন কোনো দাম নেই। আপনার লেখা কবিতার লাইন গুলো দারুন হয়েছে।